- Get link
- X
- Other Apps
শ্রম আদালতে শ্রমিকেরা বঞ্চিত, নিষ্পত্তির অপেক্ষায় ২০ হাজার মামলা
শ্রম আদালতে শ্রমিকেরা বঞ্চিত, নিষ্পত্তির অপেক্ষায় ২০ হাজার মামলা
বাংলাদেশের শ্রম আদালতগুলো শ্রমিকদের ন্যায়বিচার পাওয়ার জন্য প্রতিষ্ঠিত হলেও বাস্তবতা অনেকটাই ভিন্ন। বছরের পর বছর ধরে শ্রমিকরা তাদের অধিকার ফিরে পাওয়ার আশায় আদালতের দ্বারস্থ হলেও নিষ্পত্তিহীন মামলার দীর্ঘসূত্রতা তাদের হতাশায় ফেলেছে। বর্তমানে শ্রম আদালতগুলোতে প্রায় ২০ হাজার মামলা নিষ্পত্তির অপেক্ষায় রয়েছে, যা শ্রমিকদের প্রতি সুবিচার নিশ্চিত করার প্রশ্নে বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
মামলার দীর্ঘসূত্রতা
শ্রমিকদের অভিযোগ, মামলার নিষ্পত্তি হতে অনেক সময় পাঁচ থেকে দশ বছর লেগে যায়। এ সময়ের মধ্যে বেশিরভাগ শ্রমিকই আর্থিক, শারীরিক এবং মানসিক চাপে পড়ে যান। অনেক সময় মামলার শেষ হওয়ার আগেই শ্রমিকরা হাল ছেড়ে দেন বা অন্য কোনো কাজ খুঁজে নিতে বাধ্য হন। বিশেষ করে, যারা চাকরি থেকে অব্যাহতি পেয়েছেন বা পাওনা টাকার জন্য লড়াই করছেন, তারা এই দীর্ঘ প্রক্রিয়ায় সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হন।
আদালতের সীমাবদ্ধতা
বাংলাদেশে বর্তমানে মোট ৭টি শ্রম আদালত রয়েছে, যা দেশের বিপুল সংখ্যক শ্রমিকের জন্য সম্পূর্ণ অপর্যাপ্ত। মামলার সংখ্যা এবং বিচারকের অপ্রতুলতা আদালতের কার্যক্রমকে ধীরগতির করে তুলেছে। বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, এই আদালতগুলোতে প্রয়োজনীয় সংখ্যক বিচারক ও আধুনিক প্রযুক্তির অভাব সমস্যাকে আরো জটিল করে তুলেছে।
বাস্তব অভিজ্ঞতা
গার্মেন্টস সেক্টরে কাজ করা শ্রমিক মজিদা বেগম ২০১৫ সালে চাকরিচ্যুত হন। তার পাওনা টাকার জন্য তিনি আদালতে মামলা করেন। কিন্তু আট বছর পেরিয়ে গেলেও তার মামলা এখনো ঝুলে আছে। তিনি বলেন, "আমি জানি না, আমি জীবদ্দশায় আমার পাওনা টাকা পাব কি না।"
শ্রমিক ইউনিয়ন ও মানবাধিকার সংগঠনের দাবি
শ্রমিক ইউনিয়ন এবং মানবাধিকার সংগঠনগুলো দীর্ঘদিন ধরে শ্রম আদালতের সংস্কারের দাবি জানিয়ে আসছে। তাদের মতে, শ্রমিকদের অধিকার সুরক্ষায় আদালতের সংখ্যা বৃদ্ধি, বিচারক নিয়োগ এবং মামলার নিষ্পত্তি প্রক্রিয়া ত্বরান্বিত করার কোনো বিকল্প নেই।
সরকারি উদ্যোগ
সরকার বিষয়টি নিয়ে কাজ করার আশ্বাস দিলেও বাস্তবায়ন পর্যায়ে তা তেমন প্রভাব ফেলতে পারেনি। শ্রম আদালতগুলোর দক্ষতা বৃদ্ধি এবং বিচার প্রক্রিয়া সহজতর করার লক্ষ্যে নতুন নীতিমালা প্রণয়নের কথা বলা হলেও, তার কার্যকারিতা নিয়ে প্রশ্ন থেকে গেছে।
সমাধানের পথ
বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, শ্রমিকদের জন্য সঠিক ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে হলে নিম্নলিখিত পদক্ষেপ নেওয়া জরুরি:
- শ্রম আদালতের সংখ্যা বৃদ্ধি।
- মামলার দ্রুত নিষ্পত্তির জন্য বিশেষ ট্রাইব্যুনাল গঠন।
- শ্রম আইন সংস্কার ও আধুনিকায়ন।
- শ্রমিকদের সচেতনতা বৃদ্ধির জন্য প্রশিক্ষণ কর্মসূচি।
- তথ্যপ্রযুক্তি ব্যবহার করে মামলা পরিচালনার পদ্ধতি সহজ করা।
উপসংহার
বাংলাদেশের অর্থনীতির মেরুদণ্ড বলা হয় শ্রমিকদের। কিন্তু তাদের অধিকার সুরক্ষিত না হলে অর্থনীতির টেকসই উন্নয়ন সম্ভব নয়। শ্রম আদালতগুলো যদি সময়মতো এবং কার্যকরভাবে তাদের সমস্যা সমাধান করতে না পারে, তবে শ্রমিকদের মধ্যে হতাশা এবং ক্ষোভ আরো বেড়ে যাবে। সরকার, আদালত এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সমন্বিত উদ্যোগই কেবল শ্রমিকদের ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারে।
- Get link
- X
- Other Apps
.jpeg)
Comments
Post a Comment